দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় ষোল মাস পর অভাবনীয় এক বাস্তবতার মুখে নীরব হয়ে পড়েছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সেই নীরবতা ভেঙে এবার স্পষ্ট ভাষায় জানালেন নিজের অসন্তোষের কথা। বললেন, তার আর ভালো লাগছে না। সংসদ নির্বাচনের পর পদত্যাগ করতে চান তিনি।
ঢাকায় বঙ্গভবন থেকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি অপমানিত বোধ করেছেন। সাংবিধানিক দায়িত্বের কারণে নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত পদে থাকলেও, নির্বাচনের পর সরে যাওয়ার ইচ্ছা তার রয়েছে।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিলে রাজনৈতিকভাবে একা হয়ে পড়েন সাহাবুদ্দিন। সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর তিনিই ছিলেন দেশের একমাত্র কার্যকর সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ। তবু রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ও প্রকাশ্যে তার উপস্থিতি ছিল সীমিত।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি চলে যেতে আগ্রহী। যতক্ষণ না নির্বাচন হচ্ছে, ততক্ষণ সাংবিধানিক কারণে দায়িত্ব পালন করছি।”
রাষ্ট্রপতির অভিযোগ, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস প্রায় সাত মাস তার সঙ্গে দেখা করেননি। এমনকি প্রেস বিভাগও তার কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলো থেকে হঠাৎ করে রাষ্ট্রপতির ছবি নামিয়ে ফেলার ঘটনাকে তিনি অপমানজনক বলে উল্লেখ করেন।
“এক রাতের মধ্যে সব জায়গা থেকে ছবি সরিয়ে ফেলা হলো। এতে জনগণের কাছে ভুল বার্তা গেছে যে, হয়তো রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমি গভীরভাবে অপমানিত হয়েছি,” বলেন তিনি। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠি দিলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন।
রয়টার্স জানায়, এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবদের কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাষ্ট্রপতি জানান, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। সামরিক শাসন নিয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, সেনাপ্রধান তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, ক্ষমতা দখলের কোনো ইচ্ছা তার নেই এবং তিনি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।
গত অক্টোবরে অভ্যুত্থানের পক্ষের কিছু সংগঠন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন করলেও সাংবিধানিক সংকটের আশঙ্কায় সরকার সে পথে এগোয়নি। সাহাবুদ্দিনের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে কোনো রাজনৈতিক দল তাকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি তোলেনি।
শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগের প্রশ্নে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি এখন স্বাধীন এবং কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নন।
রয়টার্সের প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায়ও রাষ্ট্রপতি একই কথা পুনরুল্লেখ করেন। বলেন, “আমার আর ভালো লাগছে না। নতুন সরকার এলে নির্বাচনের পর আমি সরে যেতে পারি।”
